প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান হয়নি পদ্মায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
রাজবাড়ি জেলার এসপি মোহাম্মদ মঞ্জুর মোরশেদ বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘বাসটার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। বাসের উপরের অংশ ৫০ ফুট পানির নিচে আছে এখন। আর নিচের অংশ আরও ১০ ফুট নীচে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসের এক পাশে রশি লাগানো হয়েছে। আরেক পাশে রশি লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর বাসটিকে টেনে তোলা হবে। এখন এখানে প্রতিকূল আবহাওয়া, তাই উদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছে।’
মঞ্জুর মোরশেদ এ-ও জানান, বাসটি ডুবে যাওয়ার সময় ৬-৭ জন সাঁতরে পার হয়ে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে তারা বেঁচে গেছেন। তবে সে সময় আরও চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজন হাসপাতালেই মারা গেছেন। আরেকজন চিকিৎসাধীন। এদের তিনজনই নারী। আরেকজন উদ্ধারকৃত প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
এদিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, ডুবে যাওয়া বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল।
বিকেলে কী ঘটেছিল জানতে চাইলে মনির হোসেন জানান, বাসটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। বাসটি তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু সোয়া ৫টার দিকে হাসনা হেনা নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে জোরে পন্টুনে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
রাত পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ফরিদপুর ও আরিচা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং ঢাকার সিদ্দিকবাজার থেকে আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছে।