যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কারও সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে হামলা চালানো পাকিস্তানের পদক্ষেপ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক কূটনীতিক আবদুল বাসিত। এর আগে ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল এবিএন নিউজে এক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সম্প্রতি পাকিস্তানের দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আবদুল বাসিত এসব কথা বলেন।
আবদুল বাসিত বলেন, তুলসি গ্যাবার্ডের দৃষ্টিভঙ্গি ‘পাকিস্তানবিরোধী’ এবং তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় এমন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাবার্ড পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দেখলেও ভারতের অগ্নি-৫ ও অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি উল্লেখ করেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার। আমরা অনেক সময় ভেবে বসি, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুব শক্তিশালী। কিন্তু বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে কখনোই আমাদের কৌশলগত অংশীদার হবে না।’
একই সঙ্গে আবদুল বাসিত দাবি করেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যেমন কৌশলগত, তেমনি পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে কিছু উন্নতি হলেও সেটিকে অতিরঞ্জিত না করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে তুলসি গ্যাবার্ড মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বলেন, পাকিস্তানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগোতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
এই প্রেক্ষাপটে আবদুল বাসিত আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ধরা যাক, কোনো পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর হামলা চালায়, যদিও এটি অসম্ভব, তাহলে আমাদের বিকল্প কী? যদি কেউ আমাদের দিকে কুদৃষ্টি দেয়, তাহলে আমাদের ভাবার দরকার নেই, আমাদের মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতে হামলা করা উচিত। পরে কী হবে, সেটা পরে দেখা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। পরিস্থিতি খারাপ হলে মুম্বাই ও দিল্লি কোথাও যাচ্ছে না। এগুলো খুব কাছেই আছে। এর জন্য আমাদের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের দরকার নেই।’