বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাস পার হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় তারা নিয়মিত প্রতিবাদ ও আপত্তি জানালেও রমজান মাসে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেননি বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (২২ মার্চ) সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ফ্যাসিবাদ পুরোপুরি বিদায় নেয়নি, বরং এর একটি বড় অংশ বিদায় নিয়েছে, কিন্তু এর কালো ছায়া এখনো জাতির ওপর রয়ে গেছে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের জীবন, ইজ্জত ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজন হলে আমরা মাঠে নামব ও জনগণের স্বার্থে আমাদের ভূমিকা রাখব।’
সংসদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদ কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। বিরোধী দল সংসদের ভেতর গঠনমূলক রাজনীতি করবে ও প্রয়োজন অনুযায়ী রাজপথেও কর্মসূচি দেবে।’
ডেপুটি স্পিকারের পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো দলের উদারতা নয়, বরং বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকার। সংস্কার বাস্তবায়ন হলে বিরোধী দল স্বাভাবিকভাবেই এ দায়িত্ব পাবে।’
আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এটি বাস্তবতার ওপর নির্ভর করে। সময়ই বলে দেবে কখন আন্দোলনের প্রয়োজন হবে।’
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শ্রমবাজার সংকটে পড়লে দেশে বেকারত্বও বাড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে সম্পৃক্ত করা উচিত নয়। তবে তারা কোনো বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে তা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।’
সংস্কার পরিষদের ৩০ দিনের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে এবং ঈদের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হবে। সরকার চাইলে এখান থেকেই সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব স্তরের নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য।’