উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচনেও বিপুল জয় পেয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রার্থীরা প্রায় সব ভোট ও আসনেই জয়ী হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি। সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। দেশটির শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া এবং তাদের মিত্ররা ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির নির্বাচনে পেয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট।
নতুন পার্লামেন্ট কী বার্তা দিচ্ছে
নবনির্বাচিত এই পরিষদ শিগগিরই তাদের প্রথম অধিবেশন শুরু করবে। সেখানে নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত মাসে অনুষ্ঠিত শাসক দলের নবম কংগ্রেসের পর এই অধিবেশনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, অধিবেশনে গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার স্টেট অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে এবং সমাজতান্ত্রিক সংবিধানে পরিবর্তন আনার বিষয়েও আলোচনা হবে।
বিশেষভাবে নজরে রয়েছে—দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হবে কি না।
বিশ্লেষকরা এটিও পর্যবেক্ষণ করছেন যে, অধিবেশনে কিম জং উন দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা দেন কি না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আবারও স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাবেন, যা তার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করবে।
বড় ধরনের রদবদল, ক্ষমতা আরও দৃঢ়
নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগের মেয়াদের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি সদস্য পরিবর্তন করা হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর কিমের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার পদক্ষেপ।
৬৮৭ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে রয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহকারী জো ইয়ং-ওন, যিনি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব পেতে পারেন। অন্যদিকে সাবেক চেয়ারম্যান চোয়ে রিয়ং-হে সাম্প্রতিক পার্টি কংগ্রেসে পদচ্যুত হয়েছেন এবং নতুন তালিকায় তার নাম নেই।
নতুন তালিকায় কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো-জং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন-হুইও রয়েছেন, যারা শাসনব্যবস্থায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শ্রমিক, কৃষক ও কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে আসা এবং তারা দলের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবেন।
তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ০ দশমিক ০৭ শতাংশ ভোটার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক দেখানোর জন্য এই সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও অনেকের ধারণা উত্তর কোরিয়ার নির্বাচন মূলত প্রতীকী।