হাইতিতে গ্যাং দমনের নামে ড্রোন হামলায় দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানে অন্তত ১ হাজার ২৪৩ জন নিহত এবং ৭৩৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬০ জন বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে ১৭ জন শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এসব তথ্য জানিয়েছে। গত বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে হাইতিয়ান বাহিনীকে সহায়তা করছে মার্কিন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি সামরিক সংস্থা ‘ভেক্টাস গ্লোবাল’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাংবিরোধী অভিযানের নামে বিস্ফোরকবাহী কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত বছরের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, শুধুমাত্র ওয়েস্ট ডিপার্টমেন্টেই ১৭ জন শিশু এবং ৪৩ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল না। এইচআরডব্লিউ এর আমেরিকার পরিচালক জুয়ানিতা গোয়েবার্টাস এক বিবৃতিতে এ পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, আরও শিশুর মৃত্যু ঠেকানোর জন্য হাইতিয়ান কর্তৃপক্ষের উচিত জরুরি ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী এবং বেসরকারি ঠিকাদারদের লাগাম টানা।
সংস্থাটি আরও জানায়, ড্রোন হামলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বিস্ফোরক সজ্জিত ড্রোনগুলো সাধারণ যানবাহন এবং লোকজনের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ সশস্ত্র থাকলেও তারা সেই মুহূর্তে কোনো সহিংসতায় লিপ্ত ছিলেন না বা জীবনের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিলেন না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইতি সরকারকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন ও মানবাধিকার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে হাইতিতে জাতিসংঘের কার্যালয় জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় বেসামরিক হতাহতের বেশ কয়েকটি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো তদন্তের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এইচআরডব্লিউর মার্কিন অঞ্চলের পরিচালক হুয়ানিতা গোয়েবার্টুস বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত হাইতির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা বন্ধ রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, সশস্ত্র গ্যাংদের সহিংসতায় ইতোমধ্যে হাইতিতে হাজারো মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স।