টানা তিনটি বিশ্বকাপের আসরে সরাসরি জায়গা করে নেওয়া দল বাংলাদেশ এখন র্যাংকিংয়ের চাপে রয়েছে। দীর্ঘদিন ৭ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে নেমে এসেছে ১০ নম্বরে। ফলে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার মায়াজাল।
২০২৭ বিশ্বকাপে খেলবে ১৪টি দল। একই বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত র্যাংকিংয়ের সেরা আট দল পাবে সরাসরি টিকিট। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। তবে স্বাগতিকরা যদি সেরা আটের মধ্যেই থাকে, সেক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ের ১০ নম্বর দল পর্যন্ত সরাসরি সুযোগ পেতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে ১০ নম্বরে। ঠিক ওপরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭। ব্যবধান সামান্য হলেও বাস্তবতা কঠিন; স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে হিসাবের বাইরে থাকায় কার্যত বাংলাদেশ এখন ১১ নম্বরের চাপে অবস্থান করছে। তাই আগামী মার্চের আগেই অন্তত ৯ নম্বরে ওঠা অত্যন্ত জরুরি। নইলে অপেক্ষা করছে কঠিন বাছাইপর্ব, যেখানে আগের আসরে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজও ব্যর্থ হয়েছিল।
তবে সামনে সুযোগও অবশ্য কম নয়। মার্চ থেকেই শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডে সূচি। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ দিয়ে শুরু, এরপর নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজ। পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অ্যাওয়ে লড়াইও রয়েছে। সবগুলো সিরিজই আইসিসির এফটিপির অংশ, অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি প্রভাব ফেলবে র্যাংকিংয়ে।
পাকিস্তান সিরিজের আগে প্রস্তুতি হিসেবে ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে চার দলের বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। বগুড়া ও রাজশাহীতে ডাবল লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা, ফাইনাল হবে মিরপুরে। সাবেক নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর ৫০ ওভারের ধারায় ফেরা এই টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।
সব মিলিয়ে সমীকরণ কঠিন, কিন্তু সুযোগ এখনো হাতছাড়া হয়নি। র্যাংকিংয়ের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই যেন অঘোষিত ফাইনাল।