পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় বিয়ের ঘোষণার পর নীরবতা ভাঙলেন তার সাবেক স্ত্রী সানিয়া আশফাক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। গতকাল সোমবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বার্তায় সানিয়া জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তার দীর্ঘদিনের আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করেছে। তিনি দাবি করেন, পুরো পরিস্থিতির প্রভাব শুধু তার ওপর নয়, তাদের পরিবার ও সন্তানদের ওপরও পড়েছে।
এতদিন নীরব থাকলেও এবার আর চুপ থাকা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে জবাবদিহির দাবি জানান সানিয়া। সানিয়া লেখেন, ‘এখন সবাই প্রমাণ দেখেছে। এই ঘরভাঙা মানুষটি একবারও আমার বাচ্চাদের কথা ভাবেনি। প্রতারক অবশেষে সবার সামনে ধরা পড়েছে। আমি আমার সন্তানদের জন্য এবং আমাদের যা সহ্য করতে হয়েছে তার জন্য ন্যায়বিচার চাই।’
তিনি ইমাদের বিরুদ্ধে এনেছেন খুনের মতো গুরুতর অভিযোগও। তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লাহোরে সে আমার সন্তান গর্ভপাত করিয়েছে। সে একজন খুনি এবং আমার কাছে সেটা প্রমাণ করার ভিডিও আছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। এই খুনি ও প্রতারককে সুযোগ দিয়েছিল ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। তাদেরকে বয়কট করুন, কোনো প্রতারক বা খুনিকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
এর আগে ইমাদ ওয়াসিম ইনস্টাগ্রামে জানান, তিনি নাইলা রাজাকে বিয়ে করেছেন। ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার পাকিস্তানের হয়ে ৫৫টি ওয়ানডে ও ৭৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।
প্রথম সংসার ভাঙার পরের সময়কে তিনি জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সময়ে চুপ থাকার কারণে নায়লাকে অন্যায়ভাবে বিচার করা হয়েছে এবং সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
ইমাদ লেখেন, ‘আল্লাহর রহমত ও আমার বাবা-মায়ের দিকনির্দেশনায় আমি এখন নায়লাকে বিয়ে করেছি। অনেক ভেবে এবং পরিষ্কার উদ্দেশ্য নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে নতুন জীবন গড়তে চাই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নায়লা আমার জীবনে শান্তি, মর্যাদা ও শক্তি এনে দিয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্তের পাশে দৃঢ়ভাবে আছি।’
গত বছরের ডিসেম্বরে সানিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন ইমাদ। ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল। তাদের ঘরে তিন সন্তান রয়েছে।