বিশ্বকাপের উত্তেজনার আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর এক নিরাপত্তা শঙ্কা। বিশ্বকাপ চলাকালে লিওনেল মেসিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল! এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে পুলিশের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা বন্দুক ও বোমা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে লক্ষ্য করে হামলার ছক করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে শুধু মেসি নন, হুমকির মুখে পড়েছিলেন একাধিক তারকা ফুটবলার। তাদের মধ্যে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। এমনকি রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ঢোকার চেষ্টা করা এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টার এবং এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেজিয়েকেও দেওয়া হয়েছিল হাজার হাজার হুমকি। তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারেরও বেশি হুমকি আসার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছিল যে ফ্রান্সে থাকা তার পরিবারকেও পুলিশি নিরাপত্তা দিতে হয়। স্পেনের সংবাদপত্র ইনফরমাসিওন ডট ইএস এই নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
জুলাইয়ের ৭ তারিখ আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লেখা হয়েছিল, ‘আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকব এবং শরীরে বাঁধা চারটি বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেব।’ মেসিকে ঘিরে এটিই ছিল সবচেয়ে সরাসরি হুমকিগুলোর একটি।
তবে মেসির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হুমকিটি আসে ডালাস বিমানবন্দরে করা একটি ফোনকল থেকে। এক ব্যক্তি পুলিশকে জানায়, সে আরও দুইজনের সঙ্গে ‘বাড়িতে তৈরি বোমা এবং একটি এআর-১৫ রাইফেল’ নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ‘দুই দলের পুলিশ ও খেলোয়াড়দের’ ওপর হামলা চালানো। তবে ওই ব্যক্তি বিশেষভাবে লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করেছিল।
এরপর আরেকটি ঘটনায় ম্যাচ চলাকালে পুলিশে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করে, স্টেডিয়ামের ময়লার ঝুড়িতে সে ‘তিনটি বোমা’ রেখে এসেছে। খবর পাওয়ার পর বোমা বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং তাদের হ্যান্ডলাররা আটলান্টা স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালান। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন মেসিই।
রোনালদোও ছিলেন নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী জানান, এক ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি’ হোটেলে রোনালদোর থাকার জায়গা সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইছিল। দুই দিন পর হিউস্টন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং রোনালদোর হোটেলেই তাকে গ্রেপ্তার করে।
টরন্টোতেও ঘটে একই ধরনের ঘটনা। এক সমর্থক রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি ছিল, সে শুধু রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিল। মিয়ামিতেও একজন রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে। এর বাইরে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা একজন মাঠে লাফিয়ে পড়েছিল।
হুমকির তালিকা থেকে বাদ যাননি কিলিয়ান এমবাপ্পেও। ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডার পর অনলাইনে ‘জাতিবিদ্বেষী’ কথা বলে তাকে অপমান করা হয়। পুলিশ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমবাপের ছবিওয়ালা একটি পুতুল ‘পুড়িয়ে দেখানো’ হয়।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের ঘিরে মাঠের উত্তেজনার বাইরে যে কতটা ভয়ংকর নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, পুলিশের এই প্রতিবেদন সামনে আসার পর সেটিই এখন নতুন করে আলোচনায়।