বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, ফুটবল বিশ্বে সেটিই যেন বারবার প্রমাণ করে চলেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আলবিসেলেস্তেকে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে এনেছেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে থাকা মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে অনেকের মনেই ছিল প্রশ্ন। তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সব সংশয় দূর করে দিয়েছেন তিনি। কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে ৮ গোল করে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারী। আগামী রোববার নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবেন মেসি। আর এই ম্যাচে নামলেই বিশ্ব ফুটবলের এক বিশেষ অভিজাত তালিকায় জায়গা করে নেবেন তিনি।
মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মারাকানায়। সেবার অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আর্জেন্টিনার। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে হারিয়ে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি।
এবার ২০২৬ সালে এসে নিজের দ্বিতীয় টানা এবং ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিন বা তার বেশি ফাইনালে মাঠে নামা ফুটবলারের সংখ্যা খুবই কম।
এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফু একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) মাঠে নেমেছেন। এবার স্পেনের বিপক্ষে খেললে সেই কীর্তিতে কাফুর পাশে নাম লেখাবেন মেসিও।
এছাড়া ব্রাজিলের পেলে, রোনালদো নাজারিও এবং পশ্চিম জার্মানির লোথার ম্যাথিউস ও পিয়েরে লিটবারস্কি তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালের স্কোয়াডে ছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে তারা তিনটি ফাইনালেই মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
সেই জায়গাতেই আলাদা হয়ে থাকবেন মেসি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই কাফুর পর বিশ্বকাপের তিনটি ফাইনালে সরাসরি খেলা দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়বেন লিওনেল মেসি।