জয়ের একেবারে কাছাকাছি গিয়েও এমনভাবে স্বপ্নভঙ্গ হবে, তা হয়তো ভাবেননি ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর হতাশা আর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মাঠেই। ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া এক অপ্রীতিকর ঘটনায় এখন আলোচনায় ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহাম।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নাটকীয় সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জয়ের পথেই ছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির দুটি দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
হারের পর যখন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা হতাশ হয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার তরুণ ডিফেন্ডার ভ্যালেন্টিন বারকোকে উদযাপন করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, উদযাপনের সময় বারকো ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ করে কিছু মন্তব্য করেন, জানা যায় বেলিংহামকে কুকুর বলে গালি দেন। এরপরই উত্তেজিত হয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বেলিংহাম।
পরে বারকোও পাল্টা ধাক্কা দেন বেলিংহামকে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই দুই দলের খেলোয়াড়রা এসে দুজনকে আলাদা করে দেন।
পুরো টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন বেলিংহাম। তবে সেমিফাইনালের পর তার এমন আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে বেলিংহাম বলেন, ‘দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সফল হতে পারিনি।’
এদিকে ইংল্যান্ডের হারের পর কোচ টমাস টুখেলের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন অনেকে। তবে টুখেল জানিয়েছেন, দলের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বিশ্বকাপের শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও ইংল্যান্ডের অভিযান শেষ হচ্ছে না। আগামী শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে হ্যারি কেইনের দল।