বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেল থেকে বাদ পড়ার দুই মাসের মাথায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন ডাচ আন্তর্জাতিক রেফারি রব ডিপেরিঙ্ক। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তার আকস্মিক মৃত্যুতে ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এবারের বিশ্বকাপের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্যানেলে ছিলেন ডিপেরিঙ্ক। তবে গত এপ্রিলে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে একটি অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। এরপর গত মে মাসে ফিফা তাকে বিশ্বকাপের রেফারি তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়।
ঘটনার সময় তিনি লন্ডনে ক্রিস্টাল প্যালেস ও ফিওরেন্তিনার মধ্যকার কনফারেন্স লিগের ম্যাচে দায়িত্ব পালনের জন্য অবস্থান করছিলেন। পরে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশি মামলাটি বাতিল হয়ে যায় এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন।
তবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ডিপেরিঙ্ক। মৃত্যুর আগে ডাচ পত্রিকা ‘ডি টেলেগ্রাফ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের হতাশার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগের কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছি। আমি শুরু থেকেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ফিফা ও উয়েফাকে সব স্পষ্ট করেছিলাম। কিন্তু এত কিছুর পরও ফিফা আমাকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি।’
ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি) এক শোকবার্তায় ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তার অকাল প্রয়াণে তারা স্তম্ভিত ও মর্মাহত।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিপেরিঙ্ক ডাচ ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার কষ্ট কাটিয়ে ওঠার আগেই তার মৃত্যু ফুটবল অঙ্গনে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা হয়ে এসেছে। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।