২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদারের এই মহারণ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার অবশ্য এই ম্যাচে সামান্য এগিয়ে রাখছে ফ্রান্সকে।
২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফরাসিদের জয়ের সম্ভাবনা ৪৩.৯ শতাংশ, যেখানে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৭.১ শতাংশ। সব মিলিয়ে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ফ্রান্সের ৫৭.১ শতাংশ, আর স্পেনের ৪২.৯ শতাংশ। বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনাতেও এগিয়ে দেশমের দল।
এই ম্যাচেই নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। বিশ্বকাপে এটি হবে তার ২৬তম ম্যাচ পরিচালনা, যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি হেলমুট শ্যোনকে ছাড়িয়ে টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে কোচিং করানোর রেকর্ড গড়বেন। অন্যদিকে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত তার দল। এই সময়ে স্পেনের অর্জন ১২টি জয় ও একটি ড্র, যা এই দুই আসরের ইতিহাসে যেকোনো কোচের সেরা অপরাজিত সূচনা।
কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ জয় পেয়েছে ফ্রান্স। সেমিফাইনালে জিততে পারলে ইউরোপের দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা সাত বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বে তারা। একই সঙ্গে ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল জয়ের সুযোগও রয়েছে ফরাসিদের সামনে।
এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আট গোল করে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে রয়েছেন। নকআউট পর্বে তার মোট গোলসংখ্যা ১২, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। কোয়ার্টার-ফাইনালে গোড়ালিতে চোট পেলেও সেমিফাইনালে তার খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
অন্যদিকে স্পেনের রক্ষণভাগও পুরো টুর্নামেন্টে ছিল দারুণ দৃঢ়। কোয়ার্টার-ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করে ইতিহাস গড়েছেন মিকেল মেরিনো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বদলি হিসেবে নেমে টানা দুই ম্যাচে জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার এখন তিনি।
২০১৮ সালের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেন খেলেছে ২৭টি ম্যাচ। এর মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে তারা। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে পরাজয়ের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে লা রোহারা। এই সময়ে মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে দলটি।
বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও স্পেনের এটি হবে দ্বিতীয় মুখোমুখি। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে একমাত্র বিশ্বকাপ সাক্ষাতে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্রান্স। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে স্পেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১০ দেখায় সাতবার জিতেছে স্প্যানিশরা। সর্বশেষ দুই ম্যাচেও জয় ছিল তাদেরই,ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ২-১ এবং ২০২৫ সালের নেশন্স লিগে ৫-৪ গোলে।