লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে গত ৫ জুলাই টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দল। তবে শিরোপা জয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই দলের দুই সদস্যকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে দলের সহ-অধিনায়ক অ্যাশলেই গার্ডনার। অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী মনিকা রাইট। ইনস্টাগ্রামে মনিকা দাবি করেন, দলের ওপেনার জর্জিয়া ভলের সঙ্গে পরকীয়ার কারণেই গার্ডনার তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
ঘটনাটি অবশ্য নতুন নয়। গতবছর ভারতে নারী একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ চলাকালেই ২২ বছরের জর্জিয়ার সঙ্গে ২৯ বছরের গার্ডনারের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে টুর্নামেন্ট চলাকালেই ভারতে ছুটে যান মনিকা। তবে দেশে ফিরে গার্ডনার সব স্বীকার করে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করলেও মনিকা তাতে রাজি হননি।
গত নভেম্বরে সিডনির বাড়িতে ফিরে মনিকা দেখেন, গার্ডনার সবকিছু নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। শুধু বিয়ের আংটিটি রেখে যান। এরপর থেকেই তারা আলাদা থাকছেন। মনিকা তার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গার্ডনারের সব ছবি মুছে ফেলেছেন এবং তাকে আনফলো করে দিয়েছেন।
রবিবার লন্ডনভিত্তিক ট্যাবলয়েড ‘ডেইলি মেইল’ প্রথম গার্ডনারের দাম্পত্য ভাঙনের খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাশলেই গার্ডনার ও মনিকা রাইটের বিয়ে ভেঙে গেছে এবং ক্রিকেটার তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তবে সেখানে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এরপর সোমবার মনিকা নিজেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। প্রথমে তিনি ’ডেইলি মেইল’-এর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে লেখেন, ‘তথ্যগুলো খুবই অস্পষ্ট, আমি আপনাদের বলছি ঠিক কী ঘটেছিল।’ এরপর জর্জিয়া ভলের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এই সেই নারী, যার কারণে আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
জানা গেছে, ২০২০ সালে একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে গার্ডনার ও মনিকার পরিচয় হয়। চার বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিয়ে করেন তারা। তাদের সন্তান নেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল বলে মনিকার এক বান্ধবী জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনার পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি, দলের দুই খেলোয়াড়কে ঘিরে এই অভিযোগের জেরে অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, অ্যাশলেই গার্ডনার কিংবা জর্জিয়া ভল—কেউই কোনো মন্তব্য করেননি।