আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্তের পেছনের নিয়মকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় সুইসদের রূপকথার মতো বিশ্বকাপ যাত্রা।
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। এর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে দান এনদোয়ে গোল করে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের করা আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের জবাব দিয়েছিলেন। সেই সময় ম্যাচে আক্রমণাত্মক দিক থেকে এগিয়েই ছিল সুইজারল্যান্ড।
প্রথমে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি। তবে দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে এমবোলোকেই সিমুলেশনের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
ম্যাচ শেষে ইয়াকিন বলেন, ‘হলুদ কার্ড দেওয়ার কোনো কারণই ছিল না। এটি ছিল একেবারেই সাধারণ পরিস্থিতি। খেলা চলতে দেওয়া উচিত ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘অগ্রহণযোগ্য নিয়মের কারণে আমরা শাস্তি পেয়েছি। অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করাটা খুবই কষ্টদায়ক। এটি এমন এক নিয়ম, যার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই।’
ইয়াকিনের ভাষায়, ‘আজ এই নিয়মই আমাদের ম্যাচটি নষ্ট করে দিয়েছে। সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু এভাবে হারাটা খুবই বেদনাদায়ক।’
১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও ১১২ মিনিট পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে সুইজারল্যান্ড। এরপর দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে হুলিয়ান আলভারেজ আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন। ম্যাচের ১২১তম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
এই হারের মধ্যদিয়ে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সুইজারল্যান্ডের অভিযান শেষ হয়। সেমিফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন থেকেও এক ধাপ দূরে থেমে যায় তারা।
ইয়াকিনের মতে, ম্যাক অ্যালিস্টারের ১০ম মিনিটের গোল হজম করার পরও ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে এসেছিল তার দল।
তিনি বলেন, ‘পুরো দলকে আমি অভিনন্দন জানাতে চাই। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এক গোল পিছিয়ে থেকেও আমরা সমতায় ফিরেছিলাম এবং ম্যাচের গতি আমাদের দিকেই ছিল।’
সুইস মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লারও ভিএআরের এই হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এ বিষয়ে ফিফার ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দলের জন্য ভীষণ গর্বিত। সবাই শতভাগ উজাড় করে খেলেছে।’
ফ্রয়লার যোগ করেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, ভিএআর কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফিফাকে অবশ্যই আমাদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।’
লাল কার্ড দেখার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এমবোলো। সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে মাঠের বাইরে নিয়ে যান।
এ প্রসঙ্গে ইয়াকিন বলেন, ‘সে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ম্যাচজুড়ে তাকে অনেকবার ফাউলের শিকার হতে হয়েছে, আবার কয়েকটি দারুণ মুহূর্তও ছিল তার। কিন্তু এরপর আর দলকে সাহায্য করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে দোষ দিচ্ছি না। দলকে আর সাহায্য করতে না পারায় সে বিধ্বস্ত। এটি ছিল রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত।’
ইয়াকিন বলেন, ‘শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত। সাত দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের কোনো দল এবারই বিশ্বকাপে এতদূর পর্যন্ত যেতে পেরেছে।’