বিশ্বকাপ ২০২৬-এ রেফারিদের পারফরম্যান্সের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা। আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোর নাটকীয় হারের পর মিশর যে রেফারিং নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে, তার জবাব দিয়েছেন তিনি। খেলাভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবারের ম্যাচে গিয়ে থেকেও শেষ দিকে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার পুরো টিমকে বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান ইঙ্গিত দেন যে আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাত দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকুক।’
এর কিছুদিন আগেই আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ফিফা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার লাল কার্ড নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মন্তব্যে কলিনা বলেন, ‘ফুটবলে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই থাকবে। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা আমাদের খেলায় নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগ তাদের ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
কলিনার ভাষ্য, ‘কেউ দাবি করতে পারে না যে ফিফার রেফারিং ব্যবস্থাকে কোনো ব্যক্তি প্রভাবিত করতে পারেন—এমনকি ফিফা সভাপতিও নন।’
মিশরের অভিযোগ ছিল, তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় মারওয়ান আতিয়ার করা দ্বিতীয় গোল বাতিল করা হয়। গোলের শুরুতে তিনি লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে পা রেখেছিলেন বলে ফাউল দেন রেফারি। যদিও পরে মিশর আরেকটি গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
অন্যদিকে, যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে মিশরের দাবি ছিল, হামদি ফাতিকে পেছন থেকে টেনে ধরেছিলেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এছাড়া, পাল্টা আক্রমণের আগে মোহাম্মদ সালাহ হুলিয়ান আলভারেজের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।
এসব অভিযোগের জবাবে কলিনা বলেন, রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে আতিয়া মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন।
তার ভাষায়, ‘আমাদের মতে, ফাউল মানেই ফাউল। মাঠের রেফারি যদি ঘটনাটি না দেখে থাকেন, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত না হলে ভিএআর রেফারিকে সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেয়। প্রতিপক্ষের পায়ে পা দেওয়া ফাউল। তবে একজন ডিফেন্ডার যদি আগে বলে স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটি ফাউল নয়। একই ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এমন একটি ঘটনাও দেখা গেছে।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘রেফারি ও ভিএআর মনে করেছেন, সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে যা হয়েছে, তা ছিল স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ।’