যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লালকার্ড ঘিরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য। স্পোর্টস বিজনেস জার্নাল এক প্রতিবেদনে বুধবার এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, তারা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য সমর্থন সংগ্রহ করছেন। তাদের অভিযোগ, চলমান বিশ্বকাপের মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করে বালোগানকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ক্রীড়া ন্যায্যতার পরিপন্থী।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বালোগানের পক্ষে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলার পর ফিফা তার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ওল্টার্স ও নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে লালকার্ডের শাস্তি সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ‘লজ্জাজনক’ এবং এটি ‘ন্যায়বিচারের চরম বিকৃতি’।
তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ফিফার নৈতিকতা কমিটিকে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য চাপ দেয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না এবং ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়াসহ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, বিতর্ক শুরুর আগে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। জানা গেছে, ফিফা বিশ্বের শীর্ষ ফুটবল সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন জানাতে অনুরোধ করেছিল। সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইংল্যান্ডের এফএ-ও বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর একটি সমর্থনপত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল।
অন্যদিকে, বালোগানের লালকার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কলামিস্টরাও সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।