টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের সর্বনিম্ন রিসেল মূল্য মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত নেমে এসেছে প্রায় ১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে। এর আগে একই টিকিটের দাম ছিল ২ হাজার ৯৫০ ডলার। সোমবার সিয়াটলে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নেওয়ার পরই মূলত এই দরপতন শুরু হয়।
একই দিনে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগালের বিদায়ও টিকিটের চাহিদায় বড় প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যদিয়ে শেষ হয়ে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার। সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনালকে ঘিরে যে আগ্রহ ছিল, দুই দলের বিদায়ে সেটিও শেষ হয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলে টিকিটের দাম আরও বাড়তে পারত।
এর ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন সহ-আয়োজক দেশই শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারেনি। শনিবার মরক্কোর কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় কানাডা। এরপর রোববার রাতে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় মেক্সিকো।
টিকিট বিক্রির আরেক প্ল্যাটফর্ম সিটপিকের তথ্য বলছে, গত এক দিনে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের গড় রিসেল মূল্য কমেছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। আর গত তিন দিনে এই মূল্য কমেছে ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ। বর্তমানে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত টিকিটের সংখ্যা ৪৯ হাজার ৪১৫টি, যা টুর্নামেন্ট শুরুর সময় ছিল ২৮ হাজার ২৮৫টি।
শুরু থেকেই ২০২৬ বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছিল। টুর্নামেন্টের শুরুতে রিসেল বাজারে টিকিটের দাম আগের আসরগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ সাত গুণ পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে এখন সেমিফাইনালের টিকিটের দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ফাইনালের সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য এখনো প্রায় ৯ হাজার মার্কিন ডলার। তবে কোন দলগুলো সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ওঠে, তার ওপর নির্ভর করে এসব টিকিটের দাম আবারও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোতে অনুষ্ঠেয় ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের টিকিট সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। ম্যাচটির টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ৯৮৯ মার্কিন ডলার।
বর্তমানে বাজি ধরার বাজারে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। তাদের পরেই রয়েছে স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।