বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে জমজমাট লড়াইগুলোর একটিতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। শেষ আটে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সুইসরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক কৌশলে খেলতে নামে। রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। ২০ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধের শেষদিকে সুইস বক্সে আরও কয়েকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে দলকে রক্ষা করেন গ্রেগর কোবেল। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডও কয়েকবার আক্রমণে উঠলেও কলম্বিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। মাঝমাঠে দারুণ পাসিং ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল, তবে শেষ মুহূর্তে গোলের অভাবই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিশেষ করে কলম্বিয়া একাধিকবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। পুরো টুর্নামেন্টে আক্রমণভাগের যে দুর্বলতা দেখা গেছে, এই ম্যাচেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
গোলশূন্য অবস্থায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তখনো আক্রমণের ধার বজায় রাখে কলম্বিয়া। ৯৩ মিনিটে তাদের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন রেফারি। ৯৯ মিনিটে জন লুকুমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ১১২ মিনিটেও আরেকটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করে তারা। অন্যদিকে ১০৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় জিকি আমদুনির জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ক্যামিলো ভার্গাস। তবে পুরো ম্যাচে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সুইস গোলরক্ষক কোবেল, যার একের পর এক সেভ ম্যাচে দলকে টিকিয়ে রাখে।
শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয় জয়-পরাজয়। কলম্বিয়ার হয়ে দ্বিতীয় শটে দাভিনসন সানচেজ ও চতুর্থ শটে কাউচো হার্নান্দেজ গোল করতে ব্যর্থ হন। সুইজারল্যান্ডের হয়ে কেবল তৃতীয় শটে ম্যানুয়েল আকাঞ্জি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। বাকি শটগুলো সফলভাবে জালে পাঠিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।
এই জয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।