আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলোচনার অনেক কিছুই রয়েছে, তবে সব ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেসির কান্না। ম্যাচে প্রথম গোলটি করার পরই চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এসেছিল লিওনেল মেসির। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে যখন তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়, মেসি শুধু বলেছিলেন, ‘এর পেছনে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই, কারণটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।’
রহস্যময় ওই কান্নার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, কী ঘটেছে মেসির ব্যক্তিগত জীবনে? এদিকে এই নিয়ে একের পর এক ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছিল। যদিও এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ মেসি পরিবার। ম্যাচ শেষের পর থেকে মেসির এই ব্যক্তিগত সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একের পর এক মনগড়া গুজব ও জল্পনা ছড়ানো হচ্ছিল।
অবশেষে সব ধোঁয়াশা কাটিয়ে মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে এলো একটি জরুরি ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। মেসি পরিবারের দেওয়া সেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, লিওনেল মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, তার বাবা হোর্হে মেসি একটি অত্যন্ত জটিল শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, হোর্হে মেসি বর্তমানে একটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি সম্পূর্ণ চিকিৎসকদের কড়া তত্ত্বাবধানে আছেন ও তার চিকিৎসা চলছে।
সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়কে যেভাবে কিছু মানুষ কোনো ধরনের সংবেদনশীলতা বা সম্মান না দেখিয়ে সস্তা প্রচারণার হাতিয়ার বানিয়েছেন, তা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থার সঠিক তথ্য কেবল তার নিকটবর্তী পরিবারের কাছেই আছে। এর বাইরে ছড়ানো যেকোনো তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
বাবার এই কঠিন সময়ে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেসি পরিবার আরও বলেছে, একজন মানুষের স্বাস্থ্য ও তার পরিবারের মানসিক শান্তি নিয়ে যেন কোনো ধরনের নোংরা জল্পনা না করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় হোর্হে মেসি ও তাদের পুরো পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর জন্য বিশ্ববাসীর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।