ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় শিরোপা এনে দেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। বিশ্বকাপ জিতলেও সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে টি-টোয়েন্টি দলে তার নেতৃত্ব নিয়ে আর এগোতে চাইছেন না নির্বাচকরা। সেই জায়গায় নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শ্রেয়াস আইরাকে।
আসন্ন আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফরেই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পালন করবেন শ্রেয়াস আইয়ার। তবে অধিনায়কত্ব হারানোর পরও ব্যক্তিগত হতাশা সামনে আনেননি সূর্যকুমার। বরং সতীর্থ শ্রেয়াসের প্রতি প্রকাশ করেছেন পূর্ণ সমর্থন।
গতকাল মুম্বাইয়ে টি-টোয়েন্টি লিগের টস অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে সূর্যকুমার বলেন, ‘শ্রেয়াসের জন্য আমি খুবই খুশি। আমরা মুম্বাই ও ভারতের হয়ে একসঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন ভারতের টানা তিনজন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কই মুম্বাই থেকে এসেছে। এটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। মুম্বাই ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকেরই এটি উদযাপন করা উচিত।’
সূর্যকুমারের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, অধিনায়কত্ব হারালেও শ্রেয়াসের সাফল্যকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। ব্যক্তিগত ধাক্কার মধ্যেও মুম্বাই ক্রিকেটের ধারাবাহিক নেতৃত্বকে গর্বের জায়গা হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
অন্যদিকে ভারতের প্রধান নির্বাচক অজিত আগারগার অধিনায়ক পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, বিশ্বকাপ জয়ের পর দল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করেছে। আগারকার বলেছেন, ‘সূর্যকে সরানো সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। সে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তবে প্রতিটি বিশ্বকাপের পরই আমরা দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবি। তার সাম্প্রতিক ফর্ম এবং পরবর্তী দুই বছরের পরিকল্পনা বিবেচনায় আমরা মনে করেছি এটাই সঠিক পথ। শ্রেয়াসও অধিনায়ক হওয়ার পুরোপুরি যোগ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপজয়ী একজন অধিনায়ককে সরানো কখনোই সহজ আলোচনা নয়। তবে কোনো না কোনো সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতেই হতো। শুধু আইপিএলের পারফরম্যান্সের কারণে এমনটা হয়েছে বলে আমি মনে করি না। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল।’
অধিনায়কত্ব হারানোর পেছনে সূর্যকুমারের সাম্প্রতিক ব্যাটিং পারফরম্যান্সও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভারতের পূর্ণকালীন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার পর তার ব্যাটিং গড়ে বড় পতন দেখা গেছে। গড় ৪৩.৬০ থেকে নেমে এসেছে ২৫.৮৮-এ, আর স্ট্রাইক রেট ১৬৮.৭৫ থেকে কমে হয়েছে ১৫২.০৩।
সবমিলিয়ে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হয়েও সূর্যকুমারের নেতৃত্ব অধ্যায় থেমে গেল দ্রুতই। আর শ্রেয়াস আইয়ারের সামনে খুলে গেল ভারতের টি-টোয়েন্টি দলকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ।