বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়। টুর্নামেন্টের আগে আরেকটি নীরব প্রতিযোগিতা চলে, কে কোথায় থাকবে? কোন শহর হবে দলের ঘাঁটি? কোথায় অনুশীলন করবে ফুটবল তারকারা? কোন হোটেল কিংবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হবে তাদের এক মাসের অস্থায়ী বাড়ি?
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অবশেষে নিজেদের বেস ক্যাম্প বা স্থায়ী ঘাঁটি চূড়ান্ত করেছে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দল। ফিফার ভাষায় এগুলোই হবে দলগুলোর হোম অ্যাওয়ে ফ্রম হোম অর্থাৎ বিদেশের মাটিতে নিজেদের ঘরের মতো আশ্রয়।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ছড়িয়ে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে। তবে দলগুলো প্রতিদিন শহর বদলাবে না। তারা একটি নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে অবস্থান করবে, সেখান থেকে ম্যাচ খেলতে যাবে এবং আবার ফিরে আসবে।
সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু অবশ্যই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসিদের ঘাঁটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলপাগল শহর কানসাস সিটি। সেখানে তারা অবস্থান করবে এবং অনুশীলন করবে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। বিশ্বকাপজুড়ে মেসির উপস্থিতির কারণে এই শহরে দর্শকদের ভিড়ও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রাজিল বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যকে। দক্ষিণ আমেরিকার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেখান থেকেই নিজেদের অভিযান পরিচালনা করবে।
ইংল্যান্ডের সিদ্ধান্তও বেশ আলোচিত। কোচ টমাস টুখেল তার দলকে নিয়ে উঠছেন কানসাস সিটিতেই, যদিও আর্জেন্টিনার মতো একই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তারা পায়নি। টুখেল নাকি বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ কমপ্লেক্সের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ঘনিষ্ঠ পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের ঘাঁটি গড়ছে ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে। আবহাওয়া, যাতায়াত সুবিধা এবং প্রশিক্ষণ অবকাঠামো বিবেচনায় এই অঞ্চলকে আদর্শ মনে করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।
পর্তুগালের ঘাঁটিও যুক্তরাষ্ট্রেই। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাদের ক্যাম্প ঘিরেও সমর্থকদের আগ্রহ তুঙ্গে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ৪৮ দলের মধ্যে ৩৯টি দল যুক্তরাষ্ট্রে, ৭টি দল মেক্সিকোতে এবং ২টি দল কানাডায় নিজেদের বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এর ফলে শুধু ম্যাচের শহরগুলোই নয়, আরও অন্তত ২৫টি নতুন শহর বিশ্বকাপের উন্মাদনায় শামিল হচ্ছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেস ক্যাম্পের গুরুত্ব অনেক। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সময় জার্মানির নিরিবিলি ক্যাম্প নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দূরত্ব কম থাকায় সেই গুরুত্ব কিছুটা কমে গেলেও উত্তর আমেরিকার বিশাল ভৌগোলিক পরিসরে ২০২৬ আসরে বেস ক্যাম্প আবারও কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।
ফিফা মনে করছে, এসব ক্যাম্প শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনের জন্যও বড় সুযোগ তৈরি করবে। কারণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে আসবে কোচিং স্টাফ, সাংবাদিক, সমর্থক এবং বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের নজর।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এখন মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজেদের নতুন ঠিকানায় গুছিয়ে নিচ্ছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে, বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুসরা। এক মাসের জন্য এটাই হবে তাদের ঘর, স্বপ্ন আর বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানের কেন্দ্র।
সূত্র: আল জাজিরা, ফিফা, রয়টার্স।