ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নাম শুনলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে পেলে, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনহো, রবার্তো কার্লোস কিংবা নেইমারদের জাদুকরী ফুটবল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। এবার ব্রাজিলকে প্রধান ফেভারিট হিসেবে দেখছেন না অনেক বিশ্লেষক, বুকমেকার কিংবা ফুটবল বিশেষজ্ঞ। আর সেটাকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে ফিফার মিডিয়া চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাসেমিরো বলেছেন, ব্রাজিল এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ফেভারিট নয়। তবে এটিই দলকে আরও সতর্ক ও মনোযোগী রাখবে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ না থাকাটা অনেক সময় দলের জন্য সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
ক্যাসেমিরো বলেন, ব্রাজিলের বর্তমান দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে। দলটি হয়তো স্পেন, ফ্রান্স বা ইংল্যান্ডের মতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই, কিন্তু মাঠে তারা যে কোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।
আসলে গত ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায় আছে ব্রাজিল। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা। এরপর একের পর এক প্রতিভাবান দল গড়লেও বিশ্বকাপ ট্রফি আর দেশে ফিরিয়ে নিতে পারেনি তারা। ২০১৪ সালে নিজ দেশে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী পরাজয় এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়, দুই ঘটনাই এখনও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সমর্থকদের স্মৃতিতে তাজা ক্ষত।
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবদন্তি ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার হাতে প্রস্তুতির সময় খুব বেশি ছিল না। ক্যাসেমিরো নিজেও স্বীকার করেছেন, কোচিং স্টাফ পরিবর্তন এবং ফুটবল ফেডারেশনের প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে দল পর্যাপ্ত সময় একসঙ্গে পায়নি। তবুও তিনি এবার আশাবাদী।
ব্রাজিল দলে এবার আছেন ক্যাসেমিরো, নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এনড্রিকসহ আরও কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার। যদিও ইনজুরি এবং ফর্ম নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে, তবুও দলটির আক্রমণভাগকে এখনও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে। তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। কাগজে-কলমে ব্রাজিলকে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল মনে হলেও মরক্কোকে নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন - এবারের বিশ্বকাপে স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখা হলেও ব্রাজিলকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যাবে না। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ইতিহাস, প্রতিভা এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা অন্য যেকোনো দলের জন্যই বাড়তি চাপ তৈরি করে।
ক্যাসেমিরোর বার্তাটাও তাই স্পষ্ট, ফেভারিটের তকমা না থাকলেও ব্রাজিল শিরোপার লড়াইয়ে আছে। বরং প্রত্যাশার আলো থেকে একটু দূরে থাকাই হয়তো তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ২৪ বছরের অপেক্ষা শেষ করে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ তথা হেক্সা ট্রফি জয়ের স্বপ্ন এখনও জীবন্ত সেলেসাও শিবিরে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, ফিফা মিডিয়া, বিশ্বকাপ ২০২৬ টিম প্রিভিউ।