মাঠে তিনি আগে থেকেই অপ্রতিরোধ্য, এবার আয়ের দিক থেকেও মেজর লিগ সকারে যেন আলাদা এক জগতে পৌঁছে গেলেন লিওনেল মেসি। নতুন প্রকাশিত ২০২৬ সালের এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের বেতন তালিকা বলছে, ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক শুধু শীর্ষেই নেই, লিগের বাকি তারকাদের থেকে ব্যবধানও তৈরি করেছেন বিশালভাবে।
গত অক্টোবরে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত নতুন চুক্তি করেন মেসি। সেই চুক্তি অনুযায়ী তার বার্ষিক মূল বেতন ২৫ মিলিয়ন ডলার। আর গ্যারান্টিড কমপেনসেশন যোগ করলে মোট আয় দাঁড়ায় ২৮,৩৩৩,৩৩৩ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। অবাক করার মতো বিষয় হলো, ২০২৩ সালে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার সময় তার মূল বেতন ছিল ১২ মিলিয়ন ডলার। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই অঙ্ক দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
তালিকায় মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি আছেন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন হিউং-মিন। ৩৩ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের মোট আয় ১১.১৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মেসির আয়ের সঙ্গে তার পার্থক্যই প্রায় আকাশ-পাতাল।
তৃতীয় স্থানে আছেন ইন্টার মায়ামিরই আরেক পরিচিত মুখ রদ্রিগো ডি পল, যার আয় ৯.৬৮ মিলিয়ন ডলার। শীর্ষ পাঁচে জায়গা পেয়েছেন আরও দুই তারকা মিগুয়েল আলমিরন এবং হিরভিং লোজানো।
মেসির বিশাল বেতনের প্রভাব পড়েছে ইন্টার মায়ামির পুরো বেতন কাঠামোতেও। ক্লাবটির মোট পে-রোল এখন ৫৪.৬ মিলিয়ন ডলার, যা পুরো এমএলএসের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এলএএফসি খরচ করছে ৩২.৭ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন পুরো দলের পেছনে ব্যয় করছে মাত্র ১১.৭ মিলিয়ন ডলার। হিসাবটা বলছে, মায়ামির বাজেট ফিলাডেলফিয়ার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
তবে শুধু ফুটবলেই নয়, মাঠের বাইরেও নিজের ভবিষ্যৎকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে ব্যস্ত মেসি। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনার অভিজাত এলাকা তুরো পার্কে একটি বিশাল বাণিজ্যিক ভবন কিনেছেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। ভবনটির মূল্য ধরা হয়েছে ১৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৬৫ কোটি।
এক সময় বিখ্যাত ‘ভিয়া ওয়াগনার’ গ্যালারি হিসেবে পরিচিত ছিল ভবনটি। ঐতিহাসিক এই শপিং সেন্টার প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। মেসির পরিকল্পনা হলো, ৬ তলা এবং ৪৩,০০০ বর্গফুটের ভবনটিকে সংস্কার করে আধুনিক কমার্শিয়াল সেন্টারে রূপ দেওয়া।
মেসির ব্যবসায়িক আগ্রহের বড় অংশ জুড়ে আছে রিয়েল এস্টেট ও হোটেল খাত। তার মালিকানাধীন MiM (Majestic i Messi) হোটেল চেইন ইতোমধ্যেই স্পেনের ইবিজা, সিজেস এবং বাকেইরা বেরেটের মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোতে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন এই ভবনটিকে তাই তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের আরও বড় সম্প্রসারণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরো পার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন সম্পত্তির মালিক হওয়া ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী বড় আয়ের উৎস হতে পারে। ভবনটি প্রিমিয়াম অফিস স্পেস কিংবা কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য। ধারণা করা হচ্ছে, ফুটবল ক্যারিয়ারের পর নিজের আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই বার্সেলোনায় এই বড় বিনিয়োগ করেছেন মেসি।