বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজ খেলতে ঢাকায় পৌঁছেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপোড়েন; বিশেষ করে সেই বহুল আলোচিত ‘হ্যান্ডশেক’ বিতর্ক।
একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে এই প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা। গত বছর এশিয়া কাপ থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি টসের জন্য গিয়েছিলাম। তার আগে সংবাদ সম্মেলন ও ট্রফি ফটোশুটেও আমরা হাত মিলিয়েছি। কিন্তু টসের ঠিক আগ মুহূর্তে ম্যাচ রেফারি আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে বললেন, আজ কোনো হ্যান্ডশেক হবে না, আমরা এভাবেই ম্যাচটা শুরু করব। আমি অবাক হলেও বলেছিলাম, ঠিক আছে। আমি নিজেও খুব একটা আগ্রহী ছিলাম না।’
ম্যাচ শেষে সৌজন্য দেখাতে পাকিস্তান দল ভারতের ড্রেসিংরুমে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমরা হেরে গিয়েছিলাম। শিষ্টাচার অনুযায়ী আমরা ওদের প্যাভিলিয়নে বা ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলাম হাত মেলানোর জন্য। কিন্তু তখনও ওরা আমাদের সাথে হাত মেলায়নি, ড্রেসিংরুমের দরজা বন্ধ ছিল।’
এই ধরনের আচরণ তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মনে করেন সালমান। তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, এটা ঠিক হচ্ছে না। আমরা যখন দেশের প্রতিনিধিত্ব করি, তখন ছোট বাচ্চারা আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমাদের দেখে যদি কাল কোনো ক্লাব ক্রিকেটেও এমনটা ঘটে, তবে তার দায় আমাদের ওপরই বর্তাবে। রোল মডেল হিসেবে এটি মোটেও ভালো কিছু নয়।’
২০২৫ সালের পাহলগাম হামলার পর ভারতীয় দলের অবস্থান আরও কঠোর হয়। সূর্যকুমার যাদব-এর নেতৃত্বে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করার নীতি নেয়। পরবর্তীতে নারী বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ এবং ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সেই অবস্থান বহাল রয়েছে।