১২ বছর আগের স্মৃতি যেন হঠাৎ করেই ফিরে এলো। আবারও মুখোমুখি সুনীল নারিন ও নিকোলাস পুরান, আর সেই দ্বৈরথেই তৈরি হলো নতুন নাটক, আইপিএলের মঞ্চে।
২০১৪ সালে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে টি-টোয়েন্টির প্রথম সুপার ওভারে এই দুই ক্যারিবিয়ান তারকার লড়াই দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। সময় বদলেছে, মঞ্চ বদলেছে, কিন্তু নাটকীয়তার রেশ একটুও কমেনি। বরং এবার তা ছুঁয়ে ফেলেছে নতুন এক রেকর্ড, আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানের সুপার ওভার।
লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচে সুপার ওভার যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়। নারিনের প্রথম বলেই স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন পুরান। চাপ আরও বাড়ে, আর তৃতীয় বলে এইডেন মার্করাম ক্যাচ তুলে দিলে কার্যত শেষ হয়ে যায় লক্ষ্ণৌর আশা। এর মাঝে রিশাভ পান্তের নেওয়া এক সিঙ্গেল! সব মিলিয়ে সুপার ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১ রান, যা আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
মাত্র ২ রানের লক্ষ্য, এ যেন আনুষ্ঠানিকতা। রিংকু সিং ও রোভম্যান পাওয়েল খুব সহজেই সেটি পেরিয়ে যান। প্রিন্স যাদবের বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন রিংকু, আর কলকাতা পায় স্বস্তির জয়।
তবে এই নাটকের মঞ্চ তৈরি হয়েছিল মূল ম্যাচের শেষ দিকেই। শেষ ৫ ওভারে লক্ষ্ণৌর দরকার ছিল ৬৪ রান। তখন ১৬ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৯৩। সেখান থেকেই ম্যাচে ফেরার লড়াই শুরু। আয়ুশ বাদোনির আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায়।
শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৭ রান। সেই ওভারে একটি বাই, দুটি নো বল ও একটি চার; ম্যাচ বারবার মোড় নেয়। ৪ বলে যখন দরকার ৮ রান, তখন ত্যাগীর বলে হিম্মত আউট হন। তবুও শেষ বল পর্যন্ত আশা বেঁচে ছিল। ৭ রান দরকার, আর সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে মোহাম্মদ শামির লং অফ দিয়ে হাঁকানো ছক্কা ম্যাচকে ঠেলে দেয় সুপার ওভারে।
এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৭ উইকেটে তোলে ১৫৫ রান, যেখানে রিংকু সিং খেলেন ৫১ বলে ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। জবাবে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসও ৮ উইকেটে সমান ১৫৫ রান করে, দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান আসে পান্তের ব্যাট থেকে।
শেষ পর্যন্ত সুপার ওভারের এই নাটকীয় জয়ে পয়েন্ট টেবিলে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে কলকাতা। ৫ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে আট নম্বরে। অন্যদিকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তলানিতেই রয়ে গেছে লক্ষ্ণৌ।