জয়ের গল্পটা শুধু স্কোরলাইনেই লেখা হয়নি, লেখা হয়েছে ধৈর্য, পরিকল্পনা আর স্নায়ুচাপ সামলে টিকে থাকার এক বাস্তব পরীক্ষায়। জমজমাট নাটকীয় এক লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, আর স্বপ্নভঙ্গের ভার কাঁধে নিয়েই টুর্নামেন্ট ছাড়তে হয়েছে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে।
দ্বিতীয় লেগে ২-১ ব্যবধানে হার, কাগজে কলমে হয়তো ব্যথার। কিন্তু প্রথম লেগের ২-০ জয়ের শক্ত ভিতই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
বার্সেলোনার মাঠে শুরুটা ছিল একদম আগুন ঝরানো। যেন হার মানার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না তাদের। মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যে লামিন ইয়ামাল আর ফেরান তোরেস গোল করে দুই লেগ মিলিয়ে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে। গ্যালারিতে তখন উত্তেজনার ঢেউ; সমর্থকদের চোখে ভেসে উঠছিল সম্ভাব্য এক মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের ছবি।
কিন্তু ফুটবল যে মুহূর্তেই গল্প বদলে দিতে পারে, সেটাই আবারও প্রমাণ হলো। প্রথমার্ধেই আদেমোলা লুকম্যানের এক গোল পুরো ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেয়। সেই গোলের পর ধীরে ধীরে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে তুলে নেয় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। সময় গড়াতে থাকে আর বার্সেলোনার চাপ যেন উল্টো তাদের দিকেই ফিরে আসে।
৭৯ মিনিটে এসে নাটকীয়তা পায় নতুন মোড়। নিশ্চিত একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এরিক গার্সিয়া। দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর বার্সেলোনা আর লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা ছিল, কিন্তু ছিল না সেই ধার।
প্রায় এক দশক পর আবারও সেমিফাইনালে উঠল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম তারা ফিরল এই মঞ্চে।
এখন সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। সেমিফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে আর্সেনাল অথবা স্পোর্টিং লিসবনের। প্রথম লেগে এগিয়ে থাকায় আর্সেনালের দিকেই পাল্লা ভারী। আর অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে ইতোমধ্যেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পিএসজি।