ব্রাজিল ও বিশ্ব ফুটবলের আলো আবারও গিয়ে পড়েছে নেইমারের দিকে। তবে এবার কোনো জাদুকরী পারফরম্যান্স নয়, বরং মাঠের বাইরের এক বিতর্কই তাকে নিয়ে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সান্তোসের জয়ের ম্যাচ শেষে রেফারিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে রেমোর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচের পরই ঘটে এই ঘটনা। মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করলেও শেষ বাঁশির পর নেইমারের আচরণ পুরো আলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। এর আগেই চার ম্যাচে তৃতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে পরের ম্যাচে তার না খেলা নিশ্চিত ছিল।
ম্যাচ শেষে রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইওর একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার। তার অভিযোগ, তাকে পেছন থেকে ফাউল করা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি, উল্টো তাকেই দেখানো হয়েছে হলুদ কার্ড। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে রেফারিকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন তিনি, যা ক্যামেরায় ধরা পড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নেইমার হাসতে হাসতেই রেফারিকে কটাক্ষ করে বলেন তিনি ‘খারাপ মেজাজে’ মাঠে এসেছেন এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। তবে তার কিছু শব্দ ও অভিব্যক্তি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল মহলে ‘অপমানজনক ও অখেলোয়াড়সুলভ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নেইমারের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। অতীতের একটি ঘটনার নজিরও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, যেখানে একই ধরনের আচরণের জন্য একজন খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হলে নেইমারের জন্য কঠিন শাস্তিই অপেক্ষা করছে; বিশেষ করে তার অতীতেও মাঠ ও মাঠের বাইরের বিতর্ক থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ চোট ও ফর্মহীনতা কাটিয়ে আবারও নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। সান্তোসের হয়ে মৌসুমের শুরুতে ৬ ম্যাচে ৩ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে ভালো ইঙ্গিত দিলেও এই বিতর্ক তার অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জাতীয় দল নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান ফর্ম ও পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই দল গঠন করা হচ্ছে। যদিও তিনি এটাও বলেছেন, নেইমার পুরোপুরি ফিট থাকলে ভবিষ্যতে তার জন্য দরজা খোলা থাকবে।
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমারের জন্য এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ। সেই মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন দেখলেও, এই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথকে কঠিন করে তুলতে পারে।