যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার এসে পড়েছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরেও রাজনীতির ছায়া যে কতটা গভীর হতে পারে, তারই নতুন উদাহরণ ইরান। বাছাইপর্ব পেরিয়ে আগেভাগেই টিকিট নিশ্চিত করা দলটি এখন বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
এই অনিশ্চয়তার মাঝেই ইরান চেষ্টা চালিয়েছে অন্তত নিজেদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু এতদিন নীরব থাকার পর অবশেষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ফিফা, আর তাতে খুব একটা স্বস্তি পায়নি ইরান শিবির। সম্প্রতি ফিফা কাউন্সিলের সভা শেষে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে দেন, ‘আমাদের একটি নির্দিষ্ট সূচি আছে এবং সেটি বদলানো হবে না।’
তার এই মন্তব্য যেন একরকম চূড়ান্ত বার্তাই দিয়ে দিল,পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।
তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবল দিয়ে সব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ একইসঙ্গে মনে করিয়ে দেন, ‘ফিফা ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দিতে পারে না।’ তবে এখানেই থেমে থাকেননি ইনফান্তিনো। বরং ফুটবলকে শান্তির দূত হিসেবে ব্যবহার করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই; যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা মিলেই বসছে ফুটবল বিশ্বকাপের জমজমাট আসর। সবকিছু ঠিক থাকলে এই আসরেই মাঠে নামার কথা ইরানের। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
সূচি বলছে, গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। দুটি লস অ্যাঞ্জেলসে, একটি সিয়াটলে। প্রতিপক্ষ হিসেবে অপেক্ষা করছে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। এর আগে ইনফান্তিনোর হাত ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তির পুরষ্কার দিয়েছিল ফিফা। ওই ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন তিনি।