অবশেষে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন নেইমার। জাতীয় দলে জায়গা না পাওয়ার হতাশা, ক্ষোভ; সবকিছুই উঠে এলো তার কথায়, তবে সুরে ছিল আত্মবিশ্বাসও। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেন, প্রমাণ করার মতো নতুন কিছু আর বাকি নেই তার।
মার্চ উইন্ডোকে সামনে রেখে আবারও ব্রাজিল দলে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন নেইমার জুনিয়র। কিন্তু কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার। বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে যেখানে দল পর্যবেক্ষণ করা হবে, সেখানেই নেই ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়েছে নেইমারের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা একজন ফুটবলারকে আবার দলে নেওয়া কতটা সম্ভব? সেই প্রশ্ন উঠছে। তবুও নিজের আত্মবিশ্বাসে অটল তিনি।
এক ভিডিও বার্তায় নেইমার বলেন,‘আমাকে কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। আমি এটা সর্বোচ্চ সম্মানের সাথেই বলছি। পুরো বিশ্ব জানে। চাইলে তারা আমার ম্যাচ দেখতে পারে এমনকি অনুশীলনও। আমি ১০ বছর আগের নেইমার নই। এখন সবকিছুই আলাদা। আমি আমার খেলাটা এমনভাবে ইমপ্রুভ করেছি, যা আমার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। আমি জানি আমার কী যোগ্যতা এবং মাঠে আমার কতটা প্রভাব।’
ক্যারিয়ারের মাঝপথে বারবার ইনজুরি তাকে থামিয়ে দিয়েছে, ছন্দপতন ঘটিয়েছে। তবুও প্রতিবারই ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেই লড়াইয়ের ধারাবাহিকতাতেই আবার জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন নেইমার। ইঙ্গিত দিয়েছেন, সময়টা শেষের দিকেই।
নেইমার বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলে এটা আমার শেষ বছর কিনা জানি না, কিন্তু শেষটা কাছে চলে এসেছে। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর থেকেই আমি সবসময় জানতাম, পরের স্কোয়াডে আমি থাকব। কিন্তু এবার অনিশ্চিত। তবে এটা ঠিক অবশ্যই আমি বিশ্বকাপে যেতে চাই, আর সেটাই আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’
যদিও আপাতত আনচেলত্তির দলে নেই তিনি, তবুও দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কারণ চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে ১৮ মে। এর মধ্যে যদি পুরোপুরি ফিটনেস ও ফর্ম ফিরে পান, তাহলে তাকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।
সবমিলিয়ে নেইমারের সামনে এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই, যেখানে নিজেকে প্রমাণ নয়, বরং নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার।