দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এক ছাদের নিচে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ক্লাব ব্যস্ততা শেষে প্রায় চার মাস পর সতীর্থদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় ক্যাম্পের শুরুতেই ফুটবলারদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস আর কৌতূহল।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের ক্যাম্প। জামাল ভূঁইয়া, যায়ান আহমেদদের সঙ্গে শেখ মোরসালিন ও তারিক রায়হান কাজীরাও যোগ দিয়েছেন দলে। কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা নিজেই সবার খোঁজখবর নিয়ে ফুটবলারদের বরণ করে নেন, যা ক্যাম্পের শুরুতে ইতিবাচক আবহ তৈরি করেছে।
ক্যাম্পে যোগ দিলেও মাঠের অনুশীলন শুরু হচ্ছে আজ থেকে। সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাই। যদিও সিঙ্গাপুর ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি গুরুত্ব বহন করছে না, তবুও র্যাংকিং ও আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে এটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে টাইগাররা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সিঙ্গাপুরের চেয়ে ভিয়েতনাম কঠিন প্রতিপক্ষ। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। যদি বলতে হয়, সিঙ্গাপুরের ম্যাচের জন্য এটা খুবই ভালো একটা প্রস্তুতি। আমরা ভিয়েতনামের বিপক্ষে ভালো খেলতে পারি, তাহলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট নেওয়া। সত্যি বলতে কি, সবাই চায় আমরা যেন দুটো ম্যাচেই জিতে। বিশ্বাস আছে, আমরা ভালো একটা রেজাল্ট করতে পারি।’
এদিকে দল নির্বাচন নিয়েও আলোচনা কম হয়নি। ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দলে জায়গা পেয়েছেন কিছু নতুন ও ফেরত আসা ফুটবলার। দেড় বছর পর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন বিশ্বনাথ ঘোষ। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন গোলরক্ষক নির্বাচন।
বসুন্ধরা কিংসের হয়ে নিয়মিত খেলা আনিসুর রহমান জিকোকে দলে না রেখে তুলনামূলক কম ম্যাচ খেলা মেহেদি হাসান শ্রাবণকে নেওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ ক্যাবরেরা। তিনি বলেন, ‘দল নির্বাচন করা সব সময়ই কঠিন। জিকো শ্রাবণের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেললেও আমার কাছে শ্রাবণ বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময় গোলরক্ষক। তাকে জাতীয় দলে না নেওয়াটা আমার দিক থেকে দায়িত্বজ্ঞানহীন হতো। আমি বলছি না যে জিকো যোগ্য নয়, কিন্তু আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আপনি ক্লিন শিটের কথা বলেছেন। ক্লিন শিট রাখা কেবল একজন গোলরক্ষকের একার সাফল্য নয়। আমরা সাধারণত একজন তরুণ গোলরক্ষককে দলে ডাকার চেষ্টা করি। ইসহাক আকন্দও ভালো করছে এবং আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে সে মানানসই। তবে এই ক্যাম্পের জন্য আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। আগামী ৩১ মার্চ বাফুফের সঙ্গে ক্যাবরেরার চুক্তি শেষ হচ্ছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর আলোচনায় বসে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তার পথচলা আরও দীর্ঘ করতে চান।
সব মিলিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ ও বাছাইপর্ব, দুই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এই ক্যাম্পই বলে দেবে, নতুন পরিকল্পনায় দল কতটা প্রস্তুত।