ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কে? তাকে প্রথম দেখে কেন হঠাৎ গলা শুকিয়ে যায়, কেন কেউ অজান্তেই কেঁদে ফেলে? বাহ্যত তিনি একজন ফুটবলার মাত্র, কিন্তু তিনি তার চেয়েও বেশি কিছু। কিছু মানুষ শুধু পেশায় বড় হয় না, তারা হয়ে ওঠে অনুভূতি। রোনালদো তেমনই একজন, যাকে দেখলেই মানুষ নিজের অজান্তে বিশ্বাস করতে শেখে, অসম্ভব বলে কিছু নেই।
৪০ পেরোনো এই মানুষটা ফুটবলের সবুজ ঘাসে অসংখ্য মহারণের জন্ম দিয়েছেন। করেছেন ৯৬১ গোল, ২৬০ অ্যাসিস্ট, জিতেছেন ৩৬টি ট্রফি। কিন্তু এই সংখ্যাগুলোই সবকিছু নয়। প্রতিটি গোলের পেছনে ছিল নিজের সঙ্গে লড়াই। প্রতি ১১১ মিনিটে একটি গোল এবং গড়ে প্রতি ৮৮ মিনিটে একটি করে গোলের অবদানচ, এটাই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মানদণ্ড।
আমরা রোজকার জীবনে অভিযোগ করি- সে এটা পেয়ে গেল, আমি পেলাম না কেন? সে আমার চেয়ে খারাপ হয়েও এগিয়ে গেল কেন? এই চেনা মানসিকতার ভিড়ে রোনালদো আলাদা। কারণ তিনি কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করেন না, নিজেকেই চ্যালেঞ্জ করেন। সেই ভিন্নতাই তাকে কোটি মানুষের অনুপ্রেরণায় পরিণত করেছে।
নিন্দা আর সমালোচনা রোনালদোর কাছে শব্দমাত্র। তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি বুলেটপ্রুফ। সত্যিই তো, যে ছেলেটা একসময় মদ্যপ বাবার সংসারে রাস্তায় কাজ করত, তার কাছে হাজারটা সমালোচনা কোনো অর্থই বহন করে না। একটাই ‘সিউউউ’ই সবাইকে চুপ করিয়ে দিতে যথেষ্ট।

দারিদ্র্যতাকে তিনি দেখিয়েছেন বুড়ো আঙুল। আজ যিনি আকাশচুম্বী হোটেলের জানালা দিয়ে পুরো শহর দেখেন, তিনি একসময় ক্ষুধার তাড়নায় ম্যাকডোনাল্ডসের দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করতেন, খাওয়ার মতো কিছু বেঁচে আছে কি না। সেই কর্মচারী এডানাকে তিনি ভুলে যাননি কখনো। অর্থের চেয়েও কৃতজ্ঞতা যে বড়, রোনালদো সেটাই শিখিয়েছেন।
আজ ইতিহাস বলে- পর্তুগালের আছে একটি নাম, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার আগে দেশটির কোনো বড় ট্রফি ছিল না। অথচ রোনালদোর হাত ধরেই পর্তুগাল শিখেছে শিরোপা জিততে, স্বপ্ন দেখতে।
জাতীয় দলের হয়ে ১৪৩ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। প্রায় প্রতি ১০০ মিনিটে একটি করে গোলের অবদান, এমন ধারাবাহিকতা কেবল কিংবদন্তিদেরই মানায়। বয়স তার কাছে কখনো বাধা হয়নি। ত্রিশ পেরোনোর পরও তিনি করেছেন প্রায় ৫০০ গোল, যা অনেক স্ট্রাইকারের পুরো ক্যারিয়ারের সমান।
লক্ষ্যটা তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন- ১,০০০ গোল। আর মাত্র ৩৯টি দূরে। চোট যদি বাধা না হয় তবে হাজার ছুঁয়েই থামতে চান। অবসরও আসবে, সেটাও তিনি জানেন। কিন্তু যতদিন খেলছেন, তদিনই প্রমাণ করছেন বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।
আজ ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবে খেলছেন রোনালদো। তবু তার গোল হলে এখনো কোথাও কোনো কিশোর লাফিয়ে ওঠে, চিৎকার করে। কারণ রোনালদো শুধু ফুটবল খেলেননি, তিনি জীবন শিখিয়েছেন- হাল ছেড়ে না দেওয়ার, নিজেকে বিশ্বাস করার।
শুভ জন্মদিন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আপনি শুধু একজন ফুটবলার নন। আপনি মাদেইরা থেকে উঠে আসা এক চিরকালীন গল্প, এক অমর প্রেরণা।