সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় পরিবেশগত সংকট। এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তির সহায়তায় এগিয়ে এসেছে দ্য ওশান ক্লিনআপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তারা খুঁজে বের করছে কোথায় সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক জমছে এবং কীভাবে আরও দ্রুত তা অপসারণ করা যায়।
২০১৩ সাল থেকে সমুদ্র পরিষ্কারের কাজ করছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংস্থা দ্য ওশান ক্লিনআপ। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্যাটেলাইট ছবি, ড্রোনের ভিডিও এবং বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্লাস্টিকের অবস্থান ও গতিপথ নির্ধারণ করা হয়। ফলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও কার্যকর হচ্ছে।
সংস্থাটির ব্যবহৃত ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভাসমান ব্যারিয়ার সমুদ্রে ভেসে আসা প্লাস্টিক আটকে রাখে। এআই জাহাজের চলার পথও নির্ধারণ করে দেয়, যাতে কম সময়ে বেশি প্লাস্টিক সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। প্রতিটি অভিযান থেকে নতুন তথ্য শিখে প্রযুক্তিটি আরও দক্ষ হয়ে উঠছে।
সংস্থাটির দাবি, গত ছয় মাসে তারা যে পরিমাণ প্লাস্টিক সংগ্রহ করেছে, আগের ১১ বছরেও এত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের কার্যক্রমের প্রভাবও দ্রুত বাড়ছে।
শুধু সমুদ্র নয়, নদীর প্লাস্টিকও আটকাতে তারা তৈরি করেছে সৌরশক্তিচালিত ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থা। নদীর মোহনায় স্থাপিত এই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে সেন্সর ও কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে আবর্জনা সংগ্রহ করে কন্টেইনারে জমা করা হয়। কন্টেইনার পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পাঠানো হয়, ফলে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
দ্য ওশান ক্লিনআপের লক্ষ্য, ২০৪০ সালের মধ্যে সমুদ্রে প্লাস্টিকের পরিমাণ ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।