মে মাসের ভোরের আকাশ এবার মহাকাশপ্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছে এক দারুণ দৃশ্য। ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পূর্ব দিগন্তে খুব কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ, শনি, মঙ্গল এবং দূরবর্তী গ্রহ নেপচুনকে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় আকাশদৃশ্য হতে যাচ্ছে এটি। পরিষ্কার আকাশ থাকলে বাংলাদেশ থেকেও ভোরের আগে এই দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মে ভোরে সরু চাঁদকে শনির খুব কাছাকাছি দেখা যাবে। একই সময়ে নেপচুনও থাকবে ওই অঞ্চলে, যদিও খালি চোখে সেটি দেখা কঠিন। পরদিন ১৪ মে মঙ্গল, শনি এবং চাঁদ মিলে আকাশে তৈরি করবে এক ধরনের ত্রিভুজাকৃতির বিন্যাস। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে কসমিক ট্রায়াঙ্গেল বা মহাজাগতিক ত্রিভুজ বলেও বর্ণনা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দৃশ্য দেখার সবচেয়ে ভালো সময় হবে সূর্য ওঠার প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে। তখন পূর্ব আকাশে নিচের দিকে তাকালে দেখা যাবে ক্ষীণ চাঁদকে। শনিকে দেখা যাবে সোনালি আভাময় উজ্জ্বল বিন্দুর মতো, আর মঙ্গলকে দেখা যাবে হালকা লালচে রঙে। নেপচুন এতটাই দূরে যে সেটি দেখতে দূরবীন বা ছোট টেলিস্কোপের প্রয়োজন হতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলো বলছে, মে মাসজুড়েই রাতের আকাশে একাধিক বিরল দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এ মাসে দুটি পূর্ণিমা, উল্কাবৃষ্টি এবং বিভিন্ন গ্রহের কাছাকাছি অবস্থান মহাকাশপ্রেমীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ১৬ মে অমাবস্যার কারণে রাতের আকাশ আরও অন্ধকার থাকবে, যা নক্ষত্রপুঞ্জ ও ছায়াপথ দেখার জন্য উপযুক্ত সময় তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন দৃশ্য শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের কৌতূহলও বাড়ায়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, শহরের আলোকদূষণ থেকে দূরে খোলা জায়গায় গেলে দৃশ্যটি আরও পরিষ্কার দেখা যাবে। মোবাইল ফোন দিয়েও আংশিক ছবি তোলা সম্ভব হলেও ভালো মানের ছবি তুলতে ট্রাইপড ও জুম লেন্স ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মহাকাশ গবেষকদের ভাষ্য, গ্রহগুলোর এই এক লাইনে বা কাছাকাছি দেখা যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা বাস্তবেই মহাকাশে খুব কাছাকাছি এসেছে। পৃথিবী থেকে দেখার কোণের কারণে এমন দৃশ্য তৈরি হয়। তারপরও এটি মানুষের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক “প্ল্যানেট প্যারেড” বা গ্রহ সারিবদ্ধ হওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে।
বাংলাদেশের আকাশে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েকদিন ভোরের দিকে এই বিরল দৃশ্য দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যারা জ্যোতির্বিজ্ঞান বা রাতের আকাশ দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে বছরের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকস, স্পেস এবং নিউজ বাইটস