দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থী বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বিতর্কিত বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিটিতে দেখা যায়, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একটি উঠান বৈঠকে হ্যান্ডমাইকে কথা বলছেন। সেখানে বলছেন, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে তাদের ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব। আমি কিন্তু কথাটা খুব পরিষ্কারভাবে বলতাছি। এটা মনে কইরেন না আমি ভয় দেখাচ্ছি। আমি পরিষ্কার করে বলতেছি, এটা পারলে রেকর্ড করে ফেসবুকে ছাইড়া দিতে পারেন, আমার কোনো অসুবিধা নেই। সুতরাং আমাকে যেন অপমানিত না হতে হয়, আমি যদি অপমানিত হই, সেই অপমানের শোধ আমি ওইভাবে নেব কিন্তু। ঠিক আছে না? আপনারা কি আমাকে অপমানিত হইতে দেবেন? তাইলে সবাই কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারিতে ট্রাক মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করবেন। তারেক রহমানকে সরকার গঠনে সহায়তা করবেন। গুনাইঘরবাসীকে সহায়তা করবেন।’
পরে তিনি তার বক্তব্যকে গণমাধ্যমের কাছে ‘কথার কথা’ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রচারণার শেষ দিনে মধ্যরাতে নিজের এমন বক্তব্যের কারণ হিসেবে ‘ক্লান্তি ও অবসাদ’ এর কথাও বলেছেন তিনি।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বৈধ হয়। কিন্তু পরে বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, নির্বাচন কমিশনে এমন অভিযোগে আপিল করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এতে শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী।
পরে হাইকোর্ট রিট এবং সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করলে সেটিও ১ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এতে আর নির্বাচন করতে পারছেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এ কারণে বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনাময় আসনটি হাতছাড়া হয়ে পড়ে। ভোটের মাঠে অনেকটাই নির্ভার হন হাসনাত আবদুল্লাহ। কারণ, তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো হেভিওয়েট কোনো প্রার্থী ছিল না বিএনপির প্রার্থী ছাড়া। এমন পরিস্থিতিতে জোটের কারণে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানায় বিএনপি।