প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা দিল্লিতে গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে এলেও সরকার জাতির কাছে এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বর্তমান সরকার আধিপত্যবাদের সেবাদাসে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘সংসদে একটি রাজনৈতিক দলকে কটাক্ষ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু জাতীয় অপমানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো বক্তব্য দেন না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং ৩২টি জেলা এ সীমান্তের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন সংকট এবং কাঁটাতারের বেড়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করে আসছে। বাংলাদেশ ভারতের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।’
সদ্য নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে দুই মিনিটে বাংলাদেশ দখল করে নেওয়ার মতো বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ওসমানের হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফয়সালসহ বিভিন্ন অপরাধীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করছে না।’
পুশইন ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘গত বছর প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে পুশইন করা হয়েছে। সম্প্রতি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে আরও প্রায় সাড়ে চার হাজার ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ‘ভারতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আওতায় এনে পুশইনের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং সীমান্তে তাদের আটক ও নির্যাতন করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ ইতোমধ্যে পুশইন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।’
বড়াইবাড়ি সীমান্তের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিএসএফের দম্ভের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ জনগণই যথেষ্ট। লাল-সবুজের পতাকা রক্ষায় সবাইকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।’
সমাবেশ থেকে তিনি ওসমানের হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং পলাতক আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করার দাবি জানান।