আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ খাতে লাগামহীন দুর্নীতি ও পরিকল্পিত চুরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এ কথা বলেন।
গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের সূত্র ধরে পার্থ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের অব্যবস্থাপনা’ শব্দটি এই ভয়াবহ লুণ্ঠনের তুলনায় অত্যন্ত হালকা ও মৃদু একটি শব্দ। মূলত বাপেক্সকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মদদে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল। এরপর কুইক রেন্টালের নামে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, যার বোঝা এই জাতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব বিষয়ে পার্থ বলেন, ‘বর্তমানে কেন তরুণ সমাজ বারবার কেবল জুলাইয়ের ৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থানের কথাই বলে, তার কারণ আমাদের অনুধাবন করতে হবে। ২০০৮ থেকে ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ যে অবর্ণনীয় অত্যাচার চালিয়েছে, তা আমরা তরুণদের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারিনি।’
সংসদ সদস্য বলেন, ‘বর্তমান অনেক সংসদ সদস্যের বয়স যখন মাত্র ১০ বছর ছিল, তখন শেয়ারবাজারের দরবেশের কবলে পড়ে ৩০ লাখ মানুষ ফকির হয়েছে। বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ড কিংবা শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের যেভাবে অপমান করা হয়েছে, সেই ক্ষতগুলো আজকের প্রজন্ম হয়তো সেভাবে ফিল করে না। ইয়াবাসম্রাট বদি কিংবা মমতাজের মতো ব্যক্তিদের এই পবিত্র সংসদে বসিয়ে সংসদকে কলঙ্কিত করা হয়েছিল, যা তরুণদের জানানো অত্যন্ত জরুরি।’
বিচার বিভাগ ও প্রশাসন প্রসঙ্গে বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে বিচার বিভাগকে এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে যে খোদ একজন প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম গণভবনের বারান্দায় বসে লেখা হতো।’
এ ছাড়া তিনি ব্যাংক লুট ও অর্থনৈতিক অপরাধের লাগাম টানতে ‘ইকোনমিক ট্রিজন’ বা অর্থনৈতিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা আইন পাসের জোর দাবি জানান ।