গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে বৈঠক শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতি দমন, সন্ত্রাস ও দলীয়করণমুক্ত শাসনব্যবস্থার যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি চলবে।
কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ এপ্রিল ঢাকার বাইরে সব বিভাগীয় শহরে গণমিছিল এবং ২ মে দেশের প্রতিটি জেলা শহরে গণমিছিল করা হবে। এছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সেমিনার ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হবে। এসব সেমিনারে রাজনৈতিক সংকট, সংবিধান ব্যাখ্যা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ কর্মসূচির পর বিভাগীয় শহরগুলোতে বড় সমাবেশ আয়োজন করা হবে। পরবর্তীতে রাজধানীতে একটি জাতীয় মহাসমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সরকারের উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার দমনে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। দেশের মানুষের গণরায় বর্তমান সরকার উপেক্ষা করে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পক্ষে হওয়া আন্দোলন দমনে সরকার যে হুমকি দিচ্ছে তা ফ্যাসিবাদী ও অসাংবিধানিক আচরণ। আন্দোলন দমনে পতিত সরকারের মতো আচরণ করলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট, সার সংকট, স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং ব্যাংক খাতের দুরবস্থা জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান এবং জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।