কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাজারে হামলা চালিয়ে পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি। মবকে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সরকার এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
শনিবার (১২ এপ্রিল) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, ধর্ম অবমাননা কিংবা সংবেদনশীল যেকোন অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার একমাত্র কর্তৃপক্ষ আদালত। কিন্তু মব-সহিংসতা চালিয়ে যারা অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত হামলার উস্কানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া ছাড়া এ ধরনের মব-সহিংসতা সম্ভব নয়। গত বছর রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছিল।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিহত পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে কোরআন শরীফ নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায়। পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুপুরের দিকে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এনসিপি অভিযোগ করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বারবার মব কালচার বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা থামাতে পারেননি। জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় মব সৃষ্টি করে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, একদিকে সরকার মব কালচার বন্ধের কথা বলছে, অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীর মবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং এ পরিভাষা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপি বলেছে, সরকার ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্যান্য বিষয়ে মুখপাত্রের ভূমিকা পালন না করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।