সংসদে গিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই, ইনশাআল্লাহ, আর সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের আবর্জনা দূর করতে চাই—এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি জানান, রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইকে অপমান করার শামিল বলে তারা মনে করেন।
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মানুষের মনের ময়লাও দূর করতে চাই। মানবিক সংশোধনের জন্য আমাদের আজকের এই অভিযান। আজকের এই অভিযানে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে মিরপুরবাসী ও দেশবাসীকে একটি বার্তা দিতে চাই—আমরা একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ ও দেশ গড়ব, যাতে পরিবেশও সুন্দর থাকে এবং মানুষের মনও সুন্দর থাকে। পরিবেশ সুন্দর থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতের ওপর পড়ে। তখন মানুষ ভালো হয়, সমাজের জন্য দরদি ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন হয়।’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা যদি আন্তরিক হই এবং নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে পারি, তবে আমাদের প্রিয় জন্মভূমিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। আজকের উদ্যোগ লোক দেখানো নয়, এটি কেবল শুরু। প্রতিদিন ফজরের পর আমাদের প্রত্যেক ইউনিট সংগঠনকে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যয় করতে হবে। এক ঘণ্টা করতে পারলে আরও ভালো। এরপর তারা পরিবারসহ সমাজের অন্যান্য সেবামূলক কাজে ছড়িয়ে পড়বে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি চাই আজ থেকে মিরপুর এলাকাকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে উঠুক। এ কাজ করতে আমরা সরকারি ফান্ডের জন্য অপেক্ষা করব না। তবে দাবি থাকবে—এই এলাকাকে যেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা না হয়।’
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইকে অপমান করার শামিল বলে আমরা মনে করি। এই জুলাইয়ের কারণেই তো এই নির্বাচন এবং জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আর আমি হয়েছি বিরোধী দলীয় নেতা। জুলাই না এলে কি আমরা এটা হতে পারতাম? তাই আমাদের অবশ্যই জুলাইকে স্বীকৃতি দিতে হবে ও সম্মান করতে হবে। এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যে সমস্ত সংস্কার প্রস্তাব সামনে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এই সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। সরকারি দল উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আর সরকার যদি উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা জনগণের হয়ে কথা বলব—কিন্তু ছেড়ে দেব না।’
এ সময় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বহু নেতাকর্মী।