ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সারাদেশে সহিংসতা ও দখলদারিত্ব চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ ধরনের ঘটনাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব অভিযোগ করেন। নাহিদ বলেন, ‘ক্ষমতার উল্লাসে ভিন্নমত ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ওপর হামলা চালিয়ে তারা প্রমাণ করছে যে, তাদের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নয়, বরং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা।’
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সংগঠিত শক্তি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের অপচেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর সন্ত্রাস চালিয়ে মাঠ দখলের রাজনীতি সফল হবে না। জনগণের ম্যান্ডেটকে ঢাল বানিয়ে যারা গণভয় তৈরি করছে, তারা ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দমন করে নয়, বরং ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই টিকে থাকে।’
তিনি সহিংসতা বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অবিলম্বে সব সহিংসতা বন্ধ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি মনে করেন, প্রশাসনের নীরবতা, গড়িমসি বা পক্ষপাত এই সংকটকে আরও গভীর করবে এবং রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন করে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব কায়েমের চেষ্টা হলে ছাত্র-জনতা গণতান্ত্রিক উপায়ে কঠোর জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।