বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমে বেলা সাড়ে ৩টার পর এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিএনপি।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এটিই দলটির প্রথম সংবাদ সম্মেলন। ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয় পায় বিএনপি ও তার মিত্ররা। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জয়ী হয় ৭৭টি আসনে।
সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠায় ভিন্ন দল ও মতের সবার সহযোগিতা কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক জনগণের প্রতি আমার আহ্বান—আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে ‘গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের বিজয়’ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘শত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে।’
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জনমনে সৃষ্ট সব সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচারিক কর্মকর্তা, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।’
এসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তার ছেলে বলেন, ‘এমন আনন্দঘন মুহূর্তে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করেছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন। কখনো মাথা নত করেননি।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘শত উসকানির মুখেও নেতা-কর্মীরা শান্ত থেকে বিজয় উদ্যাপন করেছেন। কোনো অপশক্তি যেন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য বিজয় মিছিল না করার নির্দেশনা দিয়েছিলাম। যেকোনো মূল্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ বরদাশত করা হবে না। ন্যায়পরায়ণতা হবে আমাদের আদর্শ।’