ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬০.৬৯ শতাংশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রদত্ত ভোটের (ভোটার উপস্থিতি) ৬০.৬৯ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোট পড়েছে ৮০.১১ শতাংশ। এর মধ্যে বৈধ ভোটের হার ৭০.২৫ শতাংশ।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্রের নতুন পথযাত্রার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নয় লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোট হয়েছে ২৯৯টি আসনে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি। বহু বছর পর শঙ্কামুক্ত ভোটদানের প্রত্যাশা নিয়ে গ্রামেগঞ্জে গেছেন লাখো তরুণ, যুবক ও প্রবীণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ২০১৪ সালে একতরফা, ২০১৮ সালে রাতের ভোট ও ২০২৪ সালের আমি-ডামির নির্বাচন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশের অভিযোগ ছিল, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
গত ১১ ডিসেম্বের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী দুয়ারে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ ভোটারের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটদানের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের সঙ্গে এ ব্যবস্থাপনায় ভোট দিতে পারছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বন্দিরা।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে এবার ২৯৯টি মোট দুই হাজার ২৮ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছিলেন। পুরো নির্বাচনে হাজারখানেক ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি করেছে ইসি। ৫০টি রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭৫৫ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। বিভিন্ন দলের ৬৩ জনসহ নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন।