ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। ১০০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান। ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৪১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৬৫ ভোট।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারীতে ঢাকা-৬ আসনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ইসরাক হোসেন বলেন, ‘শুধু এই আসন নয়, ঢাকা শহরের ভোট বিশ্লেষণ করলে জামায়াত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনা ও প্রশাসনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
তিনি দাবি করেন, সূত্রাপুর থানার জামায়াতের নায়েবে আমির টাকা বিতরণ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এবং দুই দিনের সাজা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ইশরাক বলেন, সরকার জামায়াত ও এনসিপির প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছে। তবে সারা দেশে ধানের শীষের জোয়ার ঢাকায় আটকে রাখা যায়নি। ফলাফল পর্যালোচনা করে কোনো কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে কি না তা দেখা হবে বলেও জানান বিএনপির এই প্রার্থী।
ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। বিশেষ করে নারীদের এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হয়েছে, যার কারণে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কম হয়েছে।’
নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, তাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা তীব্র গ্যাস সংকট। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস ও সামগ্রিক জ্বালানি সংকট নিরসনে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।
বিজয় মিছিলের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে ইশরাক বলেন, ‘গত দুই দিন নেতাকর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের একটি অংশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে জামায়াত নেতাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নেতাকর্মীরা ক্লান্ত থাকায় আজ বিশ্রাম নেওয়া হবে এবং আগামীকাল থেকে কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।