অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে আবারও নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির যে পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে দিয়েছিলেন, এক বছর পর তাতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফ্ল্যাটের সংখ্যা আগের মতোই আছে। তবে ব্যাংকে অর্থের পরিমাণ ৯ লাখ টাকা বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রেস সচিব এসব কথা জানান।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান বার্তাসংস্থা এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম। এর কয়েক মাস পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পদের হিসাব দেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুদিন আগে আজ নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সম্পর্কে শফিকুল আলম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গত বছরের জানুয়ারিতে আমি আমার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেছিলাম। সেখানে আমি উল্লেখ করেছিলাম যে, ঢাকার শাহীনবাগে আমার একটি ফ্ল্যাট আছে এবং দনিয়াতে বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আমি আরও একটি ফ্ল্যাট পেয়েছি। এ ছাড়া ময়মনসিংহে আমার এবং আমার স্ত্রীর নামে একটি করে অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
‘আমি আরও প্রকাশ করেছিলাম যে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আমার একটি মাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা জমা ছিল। এই টাকার একটি বড় অংশ আমি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে গ্র্যাচুইটি হিসেবে পেয়েছিলাম, যেখানে আমি ২০০৫ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত কাজ করেছি। এ ছাড়া মাগুরায় আমার পৈতৃক গ্রামে ৪০ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে।’
প্রেস সচিব লেখেন, ‘আজ সম্ভবত আমার কর্মদিবসের শেষ দিন। এই জনসেবামূলক পদ ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে আমি ঘোষণা করছি যে, আমাদের সম্পত্তির পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আমার নামে আগের মতোই তিনটি ফ্ল্যাট এবং আমার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে; কৃষি জমির পরিমাণও অপরিবর্তিত আছে। আমার ব্যাংক ব্যালেন্সে সামান্য কিছু পরিবর্তন এসেছে। এখনো আমার সেই একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে বর্তমানে ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা জমা আছে। অর্থাৎ আগের চেয়ে ৯ লক্ষ টাকা বেড়েছে। এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো, আমার শ্যালক আমার কাছ থেকে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা তিনি সম্প্রতি পরিশোধ করেছেন। এর বাইরে আমার বড় ভাই রমজানে গ্রামের দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ২,৫০০ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।’
‘আমার আর্থিক লেনদেন বা বর্তমান অবস্থা নিয়ে যেকোনো ধরনের তদন্ত বা যাচাই-বাছাইকে আমি স্বাগত জানাই’, যোগ করেন তিনি।