বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সমন্বিত পরিকল্পনা নেই। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর বড় কোনো প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি না দেওয়াকে ইতিবাচক বলছেন গবেষকরা।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সামনের সরকারকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতের সংস্কারের জন্য বর্তমান গভর্নরকেও বহাল রাখা উচিত।
চলতি সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। এমন অবস্থায় ১৫০টি নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা নিয়ে মোট এক হাজার ৬৫০ জন ভোটার ও প্রার্থীর ওপর জরিপ করেছে সিপিডি। জরিপে দেখা যায়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা বেশি। তাদের বড় অংশ মনে করে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে কাজ করে না।
সিপিডি বলছে, বিএনপির ইশতেহারে কার্বন নিঃসরণ কমানোর কথা বলা হলেও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে অর্থায়নের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। একইভাবে জামায়াতের ইশতেহারে আইসিটি খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির মতো বিষয় অতিরঞ্জিত।
সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী বলেন, ‘আমরা এখন আর চাই না যে দূষিত শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক। কারণ, এই স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো আসলে সেজন্যই হচ্ছে। আমি অনেক বেশি দূষিত একটি রাসায়নিক কারখানা করছি, সেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে, কিন্তু না। আমাদের কাছে মনে হয় ইশতেহারে যে কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো গ্রিন জব ক্রিয়েশন হওয়া উচিত।’
আসন্ন নির্বাচনকে দ্বিদলীয় নির্বাচন বলে মনে করেন সিপিডির গবেষকরা। তাদের মতে, বড় জনগোষ্ঠী নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না। এ ছাড়া সামনের সরকার যেন জীবাশ্ম জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্যাংক অনুমোদন না করে, সেই আহ্বানও জানান গবেষকরা।
সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘মার্জার ও অ্যাকুইজিশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিভিন্ন চাপের মধ্যেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এগিয়ে নিচ্ছেন। অন্তত তিনি যে উদ্দেশ্য নিয়ে সংস্কারকাজগুলো করছেন, নতুন সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় এখানে যেন কোনো পরিবর্তন না আনে, সেটা অনুরোধ করতে পারি।’
বক্তারা স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ দেন। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।