পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে।
রোববার (০২ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউএই প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিনিময় করেছে।
তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিনিময় হয়েছে। তারা (ইউএই) কিছু নির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছিল, সেগুলোও যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘ইউএই কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। আর বাংলাদেশও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’
এর আগে তিনি ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম)’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রণীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৬-২০৩০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’
সাবেক পুলিশপ্রধান ইউএইতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এমন গণমাধ্যম প্রতিবেদনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আপনাদের জানাবে। আপনারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেই হালনাগাদ তথ্য পাবেন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া এ বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’
বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষ।
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের সাবেক এই পুলিশপ্রধানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরাম (আইএমআরএফ) ২০২৬-এর ফলাফল নিয়েও একটি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈশ্বিক অভিবাসন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের অবদান ও নেতৃত্ব তুলে ধরা হয়।
ন্যাপ ২০২৬-২০৩০ বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে প্রণয়ন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।