জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও আইন অঙ্গনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) পৃথক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির একজন প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস (কাজল) বলেন, দেশের আইন অঙ্গন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার মৃত্যু দেশের আইন অঙ্গন ও জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
শোকবার্তাগুলোতে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও জাতীয় সংসদের সচিব বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, রাষ্ট্র পরিচালনা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রোববার ভোরে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি দুইবার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পররাষ্ট্র, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।