বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পদের বিপরীতে ওঠানো সব বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় আলোচ্যসূচির বহির্ভূতভাবে একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করা হয়েছিল। একই সভায় পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ছিল বিধিবহির্ভূত। তাই এই নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বিধিবহির্ভূত বিবেচিত হওয়ায় ৯২তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দেওয়া আজীবন নিয়োগটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে ওই সভার তারিখ থেকে অধ্যাপক ইমেরিটাস পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত বেতন-ভাতাদিও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘শেষ বয়সে এসে আমাকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এটা আহামরি কোনো পোস্ট নয়। বাংলাদেশ মেডিকেল কর্তৃপক্ষ এই সময়ে এসে কেন এটা বাতিল করল, এটা বোধগম্য নয়, এটা অযৌক্তিক। তারা খুব বেশি যে পয়সা দিয়েছে, তা কিন্তু নয়, ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকাও হবে না। এটাও ফেরত চেয়েছে, এর চেয়ে লজ্জাজনক কী হতে পারে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে ডাক্তারি করি। চেষ্টা করেছি ভালোভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য। আমি যেহেতু শিক্ষক, সেহেতু অনেক ভালো ভালো ডাক্তারও তৈরি করেছি। তার মধ্যে অনেকেই স্বনামধন্য অধ্যাপক। আমি জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি। এখন পর্যন্ত ১০টি বই লিখেছি—সাতটি মেডিসিন ও তিনটি বাংলার বই, সবগুলো সমাদৃত। টেক্সট বইও রয়েছে। আমি এখন পর্যন্ত ১৫টি পুরস্কার পেয়েছি। একুশে পদকসহ অনেকগুলো পুরস্কার রয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এভাবে একটা সম্মানজনক পদ ছিনিয়ে নেওয়ার নজির নেই।’