আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তার বিচার হতেই হবে। ট্রাইব্যুনাল থেকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি দুবাই সরকারকে পাঠানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। সোমবার (১৫ জুন) নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
আগামী এক মাসের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বেনজীরকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে বলে আশা প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের দেওয়া সব প্রক্রিয়া শেষ হতে এক মাস সময় লাগবে। আর এসব কাজ সম্পন্ন হলেই দেশটির সরকার তাকে ফেরত দেবে বলে আমরা আশা করছি।’
দেশে ফিরলেই বেনজীরকে রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়ার কথা জানিয়ে আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার পরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া হবে। তার কাছ থেকে আমাদের অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার ব্যাপার রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে এমন কোনো দুর্নীতি নেই যা করেননি। অতএব তাকে যা যা জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন আমরা করবো।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন তথা টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় এরইমধ্যে বিচার চলছে। এ মামলার অন্যতম আসামি বেনজীর আহমেদ। এ ছাড়া শাপলা চত্বরের মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। কক্সবাজারের টেকনাফে একরামুল হত্যার ঘটনায়ও আমরা ফরমাল চার্জ তৈরি করেছি। খুব দ্রুতই এ চার্জ দেওয়া হবে।’
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘অসংখ্য গুমের সঙ্গে বেনজীর আহমেদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের বাইরেও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা আমাদের তিনটি ওয়ারেন্ট ইস্যুর নথি এরই মধ্যে সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। এরপর এসব ইন্টারপোলে যাবে। একইসঙ্গে তাকে দেশে ফেরত চেয়ে চিঠির মাধ্যমে আবেদন জানানো হয়েছে।’