রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের স্তরগুলো পার না করে রায় কার্যকর করা হলে প্রশ্ন উঠবে। তাই দোষী যদি উচ্চ আদালতে যেতে চায়, সেখানেও সরকার আইনি ধাপ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তবে, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে। এতবড় অমানবিক ঘটনার এত দ্রুত রায় দেশে মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
মন্ত্রী জানান, রামিসা, আছিয়া, রাজন, রাকিবসহ স্পর্শকাতর ও আলোচিত শিশু হত্যা ও সহিংসতার মামলাগুলো এখন থেকে উচ্চ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনি উত্তরাধিকারী (মা-বাবা) পাবেন। আসামিরা এই ক্ষতিপূরণ না দিলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিন বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন। রায় পাঠকালে পর্যবেক্ষণে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, ‘ধর্ষণ শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।’ বিচারক উল্লেখ করেন, সুরতহাল রিপোর্টে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রধান আসামি সোহেল রানার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আদালতে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে।